সময় সকাল ৯:৫১, মঙ্গলবার, ২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১১ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

মধুখালির সুরঞ্জয় সরকার সহ ৩৬ জন্মের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার মামলা

ফরিদপুরের মধুখালি উপজেলার মেগচামি ইউনিয়নের কলাগাছি গ্রামের কমল চন্দ্র সরকারের পূত্র নিউজিল্যান্ড প্রবাসী সুরঞ্জয় সরকার সহ মোট ৩৬ জনের বিরুদ্ধে গত ১৬ ই এপ্রিল সোমবারে একটি ধর্ম অবমাননার মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার নাম্বার ২৭৩/১৮। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘোড়াচুলা গ্রামে অত্যন্ত আতংক নিয়ে হিন্দু ধর্মালম্বীরা বসবাস করছেন। উল্লেখ্য যে, সুরঞ্জয় সরকার মাইনোরিটি ইন বাংলাদেশ নামক একটি অর্গানাইজেশনের সাব এডিটর।

আদালত সূত্রে জানা যায় যে, মোহাম্মদ শামীম নামক একজন হেফাজতী ইসলামের কর্মী বাদী হয়ে হয়ে এথিস্ট ইন বাংলাদেশের ৪র্থ সংখ্যার (জুলাই-ডিসেম্বর/২০১৭) বিভিন্ন লেখায় ক্ষুব্ধ হয়ে ঢাকা ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে এই মাম্লাটি দায়ের করেন। মামলায় নাজমুল হোসেন নামক এক ব্যক্তিকে মূল আসামী করে তিনি এই ম্যাগাজিনের বাকী সকল লেখকদের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামীরা হলেন, সম্পাদক আরিফুর রহমান, হোসনি মোবারক,নাজমুল হোসেন, ইয়াজ কাওসার, পিনাকী দেব অপু, নাঈমুল ইসলাম, শারমিন খান, রিয়ানা তৃণা, শাহাদাত হোসেন, ফয়সাল হোসেন অনিক, সাইফুল ইসলাম, সুজন চন্দ্র দেব, আবু হানিফ, সৈয়দ ইশতিয়াক হোসেন শাওন, সৈয়দ মোঘাম্মদ সজীব আবেদ, সৈয়দ সানভী অনিক হোসেন, মোঃ তোফায়েল হোসেন, তাহেরা সুলতানা, তাহেরা সুলতানা, কামরুন নাহার শাহানা, আদনান সাকিব, রুজভেল্ট হালদার, কাজী মোহাম্মদ সাইফুল হক, আবু তাহের মোঃ মুস্তাফা, এনায়েতুল হুদা, মিল্টন কুমার দে, তামজিদ হোসেন, হুসেন মোহাম্মদ পারভেজ, আশেফ আবরার টিটু, এম ডি আব্দুল্লাহ আল হাসান, এম ডি মেহেদী হাসান, সৈয়দ সামুন আলী, শিপন আহমেদ, জুবায়ের আহমেদ এবং গণ জাগরন মঞ্চের কর্মী আবদুল আহাদ শান্ত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে এথিস্ট ইন বাংলাদেশ একটি প্রথিতযশা ম্যাগাজিন যেটি ভারত ইউকে, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে প্রকাশিত হয়। এই ম্যাগাজিন্টিকে অনেকেই ইসলাম ইসলাম বিদ্বেষী ম্যাগাজিন হিসেবে অভিহিত করেন। আলোচ্য ম্যাগাজিনের সংখ্যায় অনেক লেখক ইসলাম ধর্মের নানা বিষয় নিয়ে লিখেছেন এবং আল্লাহ ও রাসুল সম্পর্কে ধর্ম অবমাননাকর লেখা প্রকাশ করেছেন।

এই বিষয়ে সুরঞ্জয় সরকারের বাবার সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। আমাদের এই প্রতিবেদকের সূত্রে জানা যায় যে তারা স্বপরিবারে ভারতে পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারেন। মামলার পরপর এই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এই বিষয়ে নাম না প্রকাশ করার শর্তে একজন গ্রামবাসী বলেন, “সুরঞ্জয় কি লিখেছে তা আমি পড়িনি তবে জানতে পেরেছি যে ইসলাম ধর্ম নিয়ে সে কিছু একটা সমালচনা করেছে। এখন এই লেখা ও মামলাকে কেন্দ্র করে আমাদের গ্রামটা আবার হেফাজতের কর্মীরা আবার জ্বালিয়ে দেয় কিনা এটা নিয়ে আমরা রাতদিন শংকিত হয়ে রয়েছি”

তিনি আরো জানা যে গত মার্চ মাসের দুই তারিখে সুরঞ্জয়ের বোনের বাড়ীতে দূর্বৃত্তেরা হামলা করে আগুন জ্বালিয়ে দেয় এবং তার দুলাভাই রনেন দাশের বাড়ীর গবাদি পশুদের গায়ে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। এই ব্যাপারে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানাতে যোগাযোগ করা হলে তারা এটি আদালতের বিষয় এবং এই ব্যাপারে স্থানীয় থানার কিছু করণীয় নেই বলে জানান। তবে যে কোনো অপরাধ দমনে তারা তৎপর রয়েছে বলেও আমাদের প্রতিবেদককে জানান।

আমাদের এই প্রতিবেদক মামলার বাদী মোহাম্মদ শামীর সাথে কথা বল্লে তিনি তার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “এই ম্যাগাজিনের সকল লেখক ও এর হোতাদের বিরুদ্ধে তড়িৎ ব্যবস্থা না নিলে হেফাজতের কর্মীরা তা মেনে নিবে না এবং এটার পরিণতি হবে ভয়াবহ”

তিনি আরো বলেন, “ এই ম্যাগাজিনের পেছনে রয়েছে ভারতের ষড়যন্ত্র। বাংলাদেশের বসবাসরত হিন্দুরা মুসলমানদের কোরান ও নবীকে অপমান করতে এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এদের কোনোভাবেই ছেড়ে দেয়া হবে না”

এই ব্যাপারে স্থানীয় চেয়ারম্যান হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন “সুরঞ্জয় এই গ্রামের কুলাঙ্গার সন্তান। বিদেশে থাকার সুযোগ নিয়ে সে নানাবিধ ধর্মীয় অবমাননা করেই যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে এর আগেও ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আমরা পেয়েছি। সে আমাদের নবী ও পর্দা প্রথার সমালোচনা করে নানা রকম আজে বাজে তার ওয়েবসাইট সহ তার অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে প্রচার করে পুরো ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করেছে। আমরা তার বিচার চাই। ইসলাম ধর্মের এমন অপমান আমরা মেনে নিবো না”

সম্পাদকঃ  অনুজিত সরকার
প্রকাশকঃ মুহাম্মদ রকিবুল হাসান
ই-মেইলঃ [email protected]

কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক রাজবাড়ী